মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২১, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন

ইউরোপে লকডাউন সত্ত্বেও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২০
  • ১ পাঠক পড়েছে

লকডাউন সত্ত্বেও কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণে আসছে না ইউরোপের করোনা পরিস্থিতি। প্রতিদিনই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বেড়েই চলেছে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একইসঙ্গে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলেছে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যাও।

গত ৩১ জানুয়ারি ইতালির রাজধানী রোমে দুই চীনা পর্যটকের শরীরে করোনার উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও অনেকের মতে ইউরোপে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয় ২১ জানুয়ারি ফ্রান্সের বোর্দো নামক স্থানে। দেড় মাসের মধ্যে ইউরোপের প্রায় সব দেশে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী করোনার প্রকোপ।

সুইডেন ছাড়া ইউরোপের প্রায় সব দেশ করোনাভাইরাসের সংক্রমণের উর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে লকডাউন আরোপ করে। মে মাসের মাঝামাঝি থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কমে আসতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে শুরু করে গোটা ইউরোপ। মার্চ থেকে শুরু করে জুন পর্যন্ত সময়কে ইউরোপে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রথম ওয়েভ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে আগস্টের প্রথমদিকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফের করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি ইউরোপে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ওয়েভ। মূলত, লকডাউন শিথিল পরবর্তী সময়ে এবং একইসঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সংযোগ স্বাভাবিক করার পর মানুষের অবাধ যাতায়াতকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ফের করোনা সংক্রমণের প্রাথমিক কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

তবে ইউরোপে সেকেন্ড ওয়েভে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির পেছনে অনেকে বলকান দেশগুলোকে দায়ী করেন। গোটা ইউরোপে যখন সীমান্ত সংযোগ পুনরায় স্বাভাবিক করার ঘোষণা দেওয়া হয় তখন বলকান থেকে মানুষের অবাধ যাতায়াতের ফলে ইউরোপের অনেক দেশে ফের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে।

প্রথম ওয়েভে ইউরোপে করোনা মহামারি মোকাবিলায় দুইটি সফল রাষ্ট্রের নাম ছিলও মন্টিনিগ্রো ও স্লোভেনিয়া। গত ১৫ মে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে করোনা মহামারির অবসানের ঘোষণা দেয় স্লোভেনিয়া। মার্চ থেকে শুরু করে মে এর মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যেখানে দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিলো ১৪০০ এর কিছু বেশি সেখানে এখন প্রত্যেকদিন গড়ে ১৫০০ এর মতো মানুষ নতুন করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, গত ২৩ মে ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে মন্টিনিগ্রো করোনা জয়ের ঘোষণা দেয়। এ সময় দেশটিতে নতুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিংবা নতুন করে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা একেবারে শূন্যে নেমে এসেছিলো। করোনার সেকেন্ড ওয়েভের তাণ্ডবে এ দেশটিও আজ রীতিমতো অসহায়। ৬ লাখ জনসংখ্যা বিশিষ্ট দেশটিতে প্রত্যেকদিন গড়ে ৪০০ এর বেশি মানুষ নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে।

স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি, ক্রোয়েশিয়া, রোমানিয়া, গ্রিস ইউরোপে ফার্স্ট ওয়েভে করোনা মোকাবিলায় যে দেশগুলো ছিলো অত্যন্ত সফল, সেকেন্ড ওয়েভে এসে দেশগুলো রীতিমতো পর্যদুস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক দেশে ইতোমধ্যে আইসিইউসহ ভেন্টিলেটর এমনকি প্রয়োজনীয় প্যারাসিটামলের সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে।

সেকেন্ড ওয়েভে ইউরোপে করোনা সংক্রমণের দিক থেকে সবচেয়ে নাজুক অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। প্রত্যেকদিন গড়ে দেশটিতে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। এরপরই রয়েছে ইতালি। গত ১৭ নভেম্বর দেশটিতে নতুন করে ৩২ হাজার ১৯১ জন মানুষের শরীরে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ব্রিটেন, রাশিয়া, স্পেনেও গড়ে প্রতিদিন নতুন করে ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে। জার্মানি, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, পোল্যান্ড, চেক রিপাবলিক, পর্তুগাল, ইউক্রেন ইউরোপের প্রায় সব দেশেই আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলছে করোনার সংক্রমণ।

তবে প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিসের গৃহীত কিছু পদক্ষেপের কারণে তুলনামূলকভাবে ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় এখনও কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে গ্রিস। তারপরেও গত ২০ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে ৩ হাজার ২৯০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৬০ জন।

করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু দেশ জোনভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তুলনামূলক সংক্রমণের হার যেসব অঞ্চলে বেশি সেসব অঞ্চলকে রেড জোনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু ইউরোপের দেশগুলো ফার্স্ট ওয়েভের অর্থনৈতিক বিপর্যয় পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি তাই বেশিরভাগ দেশই অর্থনীতির কথা চিন্তা করে নতুনভাবে আবারো লকডাউনের ঘোষণা দিতে চাচ্ছে না। এমনকি এখনও বেশিরভাগ দেশই প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সীমান্ত সংযোগ চালু রেখেছে, ফ্লাইটও পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়নি।

স্লোভেনিয়ার মতো ইউরোপের কিছু দেশ পরিপূর্ণভাবে লকডাউন ঘোষণা করলেও বেশিরভাগ দেশই করোনার সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে কেবলমাত্র কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাকে বেছে নিয়েছে লকডাউন বহাল রাখার জন্য। এছাড়াও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আবারো গণপরিবহন ও পাবলিক প্লেসগুলোতে মাস্ক পরিধান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং কোনো নির্দিষ্ট স্থানে একইসঙ্গে অধিক মানুষের সমাগম নিষিদ্ধ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580