সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ১২:০৫ অপরাহ্ন

করোনার ঢেউ ও আমার ভাবনা

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৯৯ পাঠক পড়েছে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে অনেক বিদগ্ধজন অনেক কিছুই লিখেছেন। আমিও কিছু লেখার চেষ্টা করছি মাত্র। যখন লিখতে বসি তখন অনেক পরিচিতজনের কথা মনে পড়ে যাদের করোনার আঘাতে মৃত্যু হয়েছে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষের মৃত্যু দেখছি। অনেক পরিবারের আর্থিক কষ্ট দেখছি। তারপরও কি আমরা আমাদের বিবেক জাগ্রত কর‍তে পেরেছি। নিজের আত্মশক্তিকে মানুষের কল্যানে নিয়োজিত করতে কি পেরেছি? নিজের শক্তিমত্তার জাহির করতে গিয়ে আমরা অনেক সময় নৈতিকতা হারিয়ে ফেলি। আমরা প্রায় সবাই এক একটি পরিবারে বাস করছি। পরিবারে সহায় সম্পদ নিয়ে থাকার পাশাপাশি অনেকে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার প্রত্যাশায় নিজের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করে থাকি। বিভিন্ন সময় আমরা শক্তি নিয়ে অহংকার করি। শক্তির প্রতিযোগিতা দেখাতে গিয়ে নিজের অস্তিত্বকে কখনো কখনো বিসর্জন দিয়ে থাকি। এই শক্তিকে আমরা বিভিন্নভাবে প্রয়োগ করতে পারি। আমরা চলাফেরার জন্য যে শক্তি পাই সেই শক্তিকে শুভ আর অশুভ অভিহিত করতে পারি। এই শুভ আর অশুভ শক্তির সংঘাত অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। শুভ শক্তির মানুষগুলো বারবার পরাজিত হয়েছে। বঞ্চিত হয়েছে তাদের অধিকার থেকে। বারবার শোষিত হয়েছে। জায়গা জমি হারিয়ে অনেকে পথের ভিখারি হয়েছে। অশুভ চিন্তা চেতনার মানুষগুলো সু্যোগ সুবিধা পেলেও তারা যে বেশ সুখে থাকে এইরকম চিন্তা করা আমাদের উচিত হবেনা। হয়তো বাহুবল অথবা আর্থিক বলের কারণে তাদেরকে সম্মান জানাতে হয়, তাদের কাছে মাথা নত করে থাকতে হয়। একটা সময় আসে যখন প্রকৃতি তাদের বিচার করে। পৌরণিক কাহিনীগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে পরাজিত শুভ শক্তির মানুষগুলোর পক্ষে ইতিহাস রচিত হয়েছে। ধরুন মহান স্রষ্টা কাউকে বিশেষ কোনো ক্ষমতা দিয়েছেন। সেই ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি কোনো অশুভ মানসিকতা নিয়ে কারো অধিকার বঞ্চিত করেন তাহলে আমার মনে হয় এর ভবিষ্যৎ শুভ নয়। শুভ ও সুন্দর মানসিকতার চর্চার মাধ্যমে একটা সময় অশুভ শক্তি পরাজিত হবে। আজকে করোনার থাবায় আমরা সবাই জর্জরিত। মানুষ অনেক অসহায় হয়ে পড়েছে। এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে একশ্রেণীর অশুভ চিন্তা চেতনার মানুষ সাধারণ মানুষকে বার বার জিম্মি করতে চেয়েছিলেন । এক সময় দেখেছি তারা ২০০ থেকে ২২০ টাকা দামের সেভলন ৫০০ টাকায় বিক্রয় করেছিলেন। জীবাণুনাশক ওষুধগুলো মার্কেট থেকে উধাও করা হয়েছিল। অনেক পত্রিকায় দেখেছিলাম মানুষ অক্সিজেন সিলিন্ডারের জন্য হাহাকার করছেন। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীগুলো বেশি দামে বিক্রয় করার চেষ্টা করেন। অশুভ চিন্তার মানুষগুলোর প্রতি অনুরোধ জানাব করোনা থেকে আপনি যে মুক্ত থাকবেন এটা চিন্তা করা উচিত হবেনা। সময় এসেছে মানুষের জন্য ভালো কিছু করুন। অশুভ শক্তিকে পদদলিত করে শুভ শক্তি এবং শুভ চিন্তাকে জাগ্রত করুন। ভালো চিন্তাকে জাগ্রত করতে পারলে প্রতিটি পরিবারে সুসন্তান আসবে। আমাদের বুঝতে হবে। মানুষকে ভালোবাসার মাঝে এক আনন্দ আছে। নিজে বাঁচব পাশাপাশি আরেকজন মানুষের কথা চিন্তা করব। যতদূর পারা যায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িনোর মধ্যে আনন্দ আছে। মানুষকে সৃষ্টির সেরা জীব বলা হয়ে থাকে। তাই মানুষের চিন্তা চেতনার মধ্যে এমন কিছু থাকা দরকার যাতে করে ভবিষ্যত প্রজন্ম ভালো কিছু গ্রহণ করতে পারে। ভালো চিন্তা চেতনার মানুষ হতে গেলে পরিবারের একটা বড় ভূমিকা আছে। পরিবারে মা এবং বাবার মানসিকতা সন্তানের চরিত্র পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। আমরা ছেলেমেয়েদের সামনে অনেক সময় অপরজনের সমালোচনা করি। তখন ছেলেমেয়েরা এই সমালোচনা করার অভ্যাসটা পরিবার থেকে শিখে। তাই মা বাবাদের উচিত ছেলেমেয়েকে শেখানো নিজের ধর্মীয় আচার-আচরণ পালন করার পাশাপাশি মানুষের সেবা করা আমাদের উচিত। সেবা করার মন মানসিকতা আমাদের অল্প বয়স থেকে সৃষ্টি করতে হবে। আমরা প্রতিদিন নিজের জন্য কত কিছু করছি। নিজ পরিবারের সুখের জন্য অনেক টাকা ব্যয় করছি। নিজের সন্মান বৃদ্ধির জন্য মাঝেমধ্যে অনেক টাকা অপব্যয় করে থাকি। আমাদের দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু টাকা যদি মানবসেবার কাজে ব্যয় করি তাহলে কিছু মানুষের উপকার হয়। প্রতিবেশী যদি ভাল না থাকে সমাজে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেবে। নিজের কাছে জমাকৃত অর্থ তখন কলংকমুক্ত হবে যখন দেখা যাবে এই অর্থের একটি অংশ মানব কল্যানে ব্যয় হয়। আমরা অনেকে আছি মানবসেবার উপর সুন্দর বক্তব্য রাখি কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় আমাদের কথার সাথে কাজের মিল নাই। যা খুবই বেদনাদায়ক। আমরা শুধু নিজের জন্য জন্মগ্রহণ করি নাই। সকলকে নিয়ে আমাদের চলতে হবে। প্রতি প্রত্যেকের ভাল থাকার মাধ্যমে আমাদের চলার পথ সুন্দর ও আনন্দময় হবে। প্রতিটি সমাজেই সেবা পরায়ন সুসন্তান আসুক। যে সন্তানগুলো সমাজ পরিবর্তনে চমৎকার দায়িত্ব পালন করবে। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবক্ষয় চরমে চলে যাচ্ছে। খবরের কাগজগুলো প্রতিনিয়ত ছাত্রসমাজ আর যুব সম্প্রদায়ের বিপদগামীতার সংবাদ দিচ্ছে। অভিভাবকরা প্রতিনিয়ত তাদের সন্তানদের নিয়ে ভীত থাকেন। নিজেকে পরিবর্তন করে তুলি। নিজের পরিবারকে পরিবর্তন করে তুলি। অন্তত আমাদের নিজ নিজ পরিবারের সন্তানদের যদি সুস্থ, সুন্দর ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়ে সুন্দর পরিবেশে গড়ে তুলি তাহলে ভবিষ্যতে অনেক সুফল পেতে পারি। আমি কামনা করছি আমাদের প্রতিটি পরিবারে সুসন্তান সৃষ্টি হোক। চোখের সামনে প্রতিনিয়ত আমরা কত ঘটনা দেখতে পাই। সুশিক্ষার অভাবে অনেক ছেলেমেয়ে তার পিতা মাতার অবাধ্য হচ্ছে। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়। পারিবারিক সুশিক্ষার মাধ্যমে প্রতিটি সন্তানের মধ্যে সৃজনশীল মনোভাব সৃষ্টি করতে হবে। সন্তান যাতে ভবিষ্যতে নিজ শক্তিকে ধ্বংসের কাজে পরিচালিত না করে সেভাবে প্রতিটি সন্তানকে গড়ে তুলতে হবে। দেশ গঠনের ক্ষেত্রে সবার ইতিবাচক মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা কাজ করে। রাজনীতি থেকে শুরু করে যেকোনো নীতির সাথে সম্পৃক্ত মানুষ যেকোনো ভাবে ভালো কাজ করতে পারেন। আমরা আমাদের শক্তিকে ধ্বংসের কাজে যেমন ব্যাবহার করতে পারি তেমনি সৃষ্টির কাজেও ব্যবহার করতে পারি। তাই আসুন আমরা ভালো চিন্তা করি। ভালো কিছু সৃষ্টি করি। মানবতার জন্য কাজ করার মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী উপহার দেওয়ার চেষ্টা করি। আমাদের উন্নত ভাবনার সাথে আমাদের ছেলেমেয়েরাও যাতে অংশীদার হয় তার দিকে খেয়াল রেখে চলব। আমি আমার জীবনের কিছু কথা তুলে ধরছি। শিক্ষক পরিবারের সন্তান হিসেবে ছোট বেলা থেকে বড় জনদের শ্রদ্ধা করার শিক্ষা রপ্ত করেছি। বাবা আমাকে শিখিয়েছেন রাস্থায় শিক্ষক শিক্ষিকা দেখলে শ্রদ্ধা করতে হবে। আমার শৈশবে গ্রামের চায়ের দোকানে বসা নিষিদ্ধ ছিল। এখনো গ্রামে গেলে চায়ের দোকানে খুব একটা বসা হয়না। চায়ের দোকানে মুরব্বিরা বসেন, কাকা,চাচারা বসেন তাই আমার বাবা আমাকে দোকানে বসে চা খাওয়ার অনুমতি দেননি। যতদূর সম্ভব আমি চেষ্টা করেছি ছোট বেলায় পাওয়া নৈতিক শিক্ষাগুলো নিজের জীবনে কাজে লাগানোর। গত কয়েকদিন আগে আন্দরকিল্লা দিয়ে হেঁটে আসছি। হঠাৎ দেখি এক যুবক এক বয়স্ক মানুষকে কথা কাটাকাটির জের ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। তেইশ বা চব্বিশ বছরের যুবকটি ফোন করে তার বাহিনীকেও নিয়ে আসার চেষ্টা করছে। যদিও স্থানীয় মানুষের প্রচেষ্টায় বড় ধরণের ঘটনা ঘটেনি। তারপরও এই ঘটনা আমার কাছে কিছু লিখার খোরাক যুগিয়েছে। এই রকম অহরহ ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। কলেজ লেভেলের কিছু উশৃংখল ছাত্র শিক্ষকদের অসম্মান করছে। পাবলিক জায়গাগুলোতে প্রকাশ্য ধুমপান করছে। মেয়েদেরকে উত্ত্যক্ত করছে। সম্মানিত ব্যক্তিদের ফেসবুক আইডি হ্যাক দেশের শান্তি নষ্ট করছে। কিশোররা বিভিন্ন গ্রুপে বিভিক্ত হয়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছে। ভাবতে অবাক লাগে যখন একজন ছাত্র আরেকজন ছাত্রকে হত্যা করার জন্য অস্ত্র হাতে নেয়। খবরের কাগজে পড়লাম কিছু ছাত্র তাদের একজন শিক্ষককে পুকুরে নিক্ষেপ করেছে। এই যে ছাত্রগুলো দিনদিন মানবতা হারিয়ে ফেলছে তার জন্য কি আমাদের কিছুই নাই? আমাদের কিশোর, আমাদের ছাত্র,আমাদের ছেলেরা যদি ভাল হয়, শ্রদ্ধাশীল হয় তাহলে দেশের জন্য অনেক শুভ হবে,মংগল হবে। আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের জায়গা থেকে আগামী প্রজন্মকে সুশিক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমি আবার বলতে চাই লেখাপড়ার পাশাপাশি সুশিক্ষা না দিলে এর দায়ভার আমাদেরও বহন করতে হবে। আমি আমার ছেলে মেয়েকে লেখাপড়ার পাশাপাশি মহা মনীষীদের জীবনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেব। তাকে শেখাব উগ্রতা দিয়ে মানুষের মন জয় করা যাবেনা। তাকে শেখাব মানুষকে ভালবাসার মাধ্যমেই মানুষের মন জয় করা যাবে। আমরা সবাই ভালোবাসার শক্তিতে উজ্জীবিত হওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হব। কেননা আমরা দিনদিন অনেক অসহায় হয়ে পড়েছি। চারদিকের হাহাকার ধ্বনি, মানুষের লুকানো দীর্ঘ নিশ্বাস আমাদের পরিবেশকে প্রতিনিয়ত ভারী করে তুলছে। একজন আরেকজনকে যে সান্ত্বনা দেবে তার ভাষাও তো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। মায়ের সামনে তার ছেলে মৃত্যু বরণ করছেন। স্বামী স্ত্রীকে হারাচ্ছেন। স্ত্রী স্বামীকে বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করছেন। কামাল লোহানীর মত বিশিষ্ট জনদের প্রতিনিয়ত আমরা হারিয়ে ফেলছি। মৃত্যুর তালিকা দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে। করোনার কালো থাবায় সুন্দর গোছানো একটি পরিবার দ্রুত ভেঙে পড়ছে। মেডিকেল এর জরুরী বিভাগে গেলে বুঝা যাবে মানুষ তার পরিজনকে নিয়ে কিভাবে ছুটে চলেছেন। কখনো সিট সংকট, আবার কখনো অক্সিজেন সংকট। আবার চিকিৎসা সেবা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেন। যখন করোনা ভাইরাসের আক্রমণ ছিলনা তখন যে সরকারী হাসপাতালগুলোর কিছু সেবক সেবিকাদের ব্যাবহার খুব যে ভাল ছিল তা কিন্তু নই। একজন রোগী এবং তার আত্মীয় স্বজনদের সাথে কিভাবে ব্যাবহার করতে হবে তার যতেষ্ট ঘাটতি ছিল। একবার আমি আমার শ্বশুরকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গিয়েছিলাম। একটা ইনসুলিন দেওয়ার জন্য তিন জন সেবিকাকে অনুরোধ করেছিলাম। শেষে যে সেবিকা এসেছিলেন তিনি আমাকে দুই চারটি কথা শুনিয়ে দিয়েছিলেন। আমি নিরুপায় হয়ে রোগীর কথা চিন্তা করে সেবিকা সাইনবোর্ডধারী এস. এস.সি পাশ করা ছোট মেয়েটির কথা হজম করেছিলাম। যেখানে আমাদের আচরণগত সমস্যা ছিল সেখানে আজকে করোনা রোগীদের সাথে কিভাবে ব্যাবহার করা হচ্ছে তা চিন্তার বিষয়। আবার কিছু ভালো মনের সেবিকা অথবা ডাক্তার রয়েছেন যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রোগীদের সেবা করে যাচ্ছেন। যারা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তাদের অবদানের কথা আমরা ভুলতে পারবনা। অনেক সেচ্ছাসেবী সংগঠন মানুষের সেবা করার জন্য এগিয়ে এসেছেন। আবার অন্যদিকে বিপরীত চিন্তার মানুষও সমাজে দেখি। মানুষ এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধুহীন হয়ে পড়ছেন। আত্মীয় পরিজন একে অপর থেকে দুরত্ব বজায় রেখে চলার চেষ্টা করছেন। এমন কিছু সংবাদ মাঝে মধ্যে চোখে পড়ে তা সত্যি অনেক করুণ। কিছু দিন আগেও দেখা গেছে সাধারণ পরিবারের কেউ করোনা ভাইরাসে মারা গেলেন তাহলে দেখা যাবে মৃত ব্যাক্তির লাশ সৎকারের জন্য পাশে অনেকসময় কাউকে পাওয়া যায়নি। একদিকে চলছে জীবন জীবিকার সংগ্রাম আর অন্য দিকে চলছে করোনা আক্রমণের আতংক। পৃথিবীতে এত কিছু হচ্ছে তারপরও কিছু অবিবেচক মানুষ এই দুরাবস্থাকে পুঁজি করে আংগুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। অনেক বিত্তবানদের দেখা যাচ্ছে তারা তাদের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছেন। ইতিমধ্যে অনেকে কর্মহীন হয়ে শহর থেকে গ্রামে চলে যাচ্ছেন। এই করুণ পরিস্থিতিতে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করা দরকার। সেবামূলক মনোভাব জাগ্রত করা খুব জরুরী। করোনার কালো থাবায় প্রতিদিন কেউ না কেউ হারিয়ে যাচ্ছেন। এমন অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত আছেন যারা কাউকে কিছু প্রকাশ করতে পারছেননা। যারা আর্থিক ভাবে সমৃদ্ধ তাদের প্রতি অনুরোধ থাকবে আপনারা এবার নিজের শক্তিকে মানবতার জন্য ব্যয় করুন। ইতিহাস আপনাদের সম্মান জানাবে। ইতিহাস আপনাদের মনে রাখবে। চলুন করোনাকালীন সময়ে মানবসেবার উপর গুরুত্ব আরোপ করি। করোনার এই দঃসময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের খুব প্রয়োজন। প্রত্যাশা করছি করোনার দ্বিতীয় ঢেউ যেন আমাদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।

 

রূপম চক্রবর্ত্তী
প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580