শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:৪৮ পূর্বাহ্ন

চালের দাম কেজিতে ২/৩ টাকা বেড়েছে, ভোজ্যতেল স্থিতিশীল

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৩৯ পাঠক পড়েছে

নিত্যপণ্যের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও আবার বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। স্বর্ণা ও চায়না ইরিখ্যাত প্রতিকেজি মোটা চালে ২-৩ টাকা বেড়ে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৪৮ টাকায়। পেঁয়াজ ও সবজির দাম আরও কমেছে। তবে সয়াবিন লুজ, আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে খুচরা বাজারে। স্থিতিশীল রয়েছে ডাল, চিনি, ডিম মসলা পাতির দাম।

শুক্রবার রাজধানীর কাওরান বাজার, ফকিরাপুল বাজার, কাপ্তান বাজার, যাত্রাবাড়ী বাজার, মুগদা বড় বাজার, খিলগাঁও সিটি কর্পোরেশন মার্কেট ও গোড়ান কাঁচা বাজার ঘুরে নিত্যপণ্যের দরদামের এসব তথ্য পাওয়া গেছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব ধরনের চালের দাম আবার বেড়ে গেছে। চাল আমদানি শুরু হওয়ায় গত সপ্তায় কমে এসেছিল চালের বাজার। কিন্তু আবার বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তন বিশেষ করে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ায় চালের উৎপাদন ও সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। আর এ কারণে চালের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজারে সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়ে ৫২-৫৮ এবং সরু নাজির শাইল ও মিনিকেট ৫৮-৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় চালের উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে। কাপ্তান বাজারের চাল ব্যবসায়ী ও নুরু রাইচ এজেন্সির স্বত্বাধিকারী মোঃ নুরুল ইসলাম জনকণ্ঠকে বলেন, পাইকারি বাজার ও মিলগেটে দাম বেড়ে যাওয়ায় এর একটি প্রভাব পড়েছে বাজারে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হয়ে আসলে দাম আবার কমে আসবে। তিনি বলেন, তবে মিলগেটে নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। কারণ সমস্যা তৈরি হয় ওখানেই।

বাজারে চালের পাশাপাশি আটা ও ময়দার দাম বেড়ে গেছে। গমের সরবরাহ বাড়াতে দুদফায় প্রায় ১ লাখ টন গম আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় শীঘ্রই গম আমদানি করে দেশে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি আটা খোলা ২৮-৩২, প্যাকেট আটা ৩০-৩৬ ময়দা খোলা প্রতিকেজি ৩৪-৩৬ এবং প্যাকেট ৩৬-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভোজ্যতেলের দামও চড়া। দাম বেড়ে এখন স্থিতিশীল রয়েছে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম। ব্র্যান্ডভেদে প্রতি পাঁচ লিটারের ক্যান ৫৮০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম আরও বেড়েছে। প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন ১১২-১১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে খুচরা বাজারে। এছাড়া পামওয়েল ও পামওয়েল সুপার তেলের দামও বেশি।

শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় কমেছে দাম। সরকারী বাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা টিসিবি প্রতিকেজি পেঁয়াজ ১৫ টাকায় বিক্রি করছে। তবে বাজারে দেশীয় পেঁয়াজ প্রতিকেজি ২৮-৩৫ এবং আমদানিকৃত পেঁয়াহ ২০-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সব ধরনের সবজির দাম কমে গেছে। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব বাজারে প্রতিকেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা, শালগম ২০ টাকা, গাজর ৩০ টাকা, শিম ২০-৩০ টাকা, বেগুন ৩০-৪০ টাকা, করলা ৩০-৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০-৪০ টাকা, পাকা টমেটো ৩০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৩০-২৫ টাকা, বরবটি ৪০-৫০ টাকা, আলু ২০ টাকায়। এছাড়া প্রতিপিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ২৫-৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস ১০-২০ টাকা, বাঁধাকপি ২০-৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া আকারভেদে ২০-৩০ টাকায়। হালিতে পাঁচ টাকা কমে কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা, জালি জুমড়া ৩০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতিকেজি ৯০ টাকা, আদা ৮০ টাকা, রসুন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে প্রতিকেজি চিনি ৬৫-৭০ টাকা, প্রতিডজন লাল ডিম ৯০ টাকা, হাঁসের ডিম ১৫৫-১৬০ টাকা, দেশী মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। বাজারে প্রতিকেজি সোনালি (কক) ২১০-২২০ টাকায় ও ব্রয়লার প্রতিকেজি ১৩০-১৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত আছে গরু ও খাসির মাংস, মসলাসহ অন্য পণ্যের দাম। বাজারে প্রতিকেজি খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭৫০ টাকা, বকরি ৭০০-৭৫০ টাকা, গরু ৫৫০ টাকা ও মহিষের মাংস ৫৫০-৫৮০ টাকায়। এসব বাজারে প্রতিকেজি রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে (আকারভেদে) ২৫০-৩৫০ টাকা, শিং (আকারভেদে) ৩০০-৪৫০ টাকা, মৃগেল ১১০-১৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১২০-১৫০ টাকা, ইলিশ (আকারভেদে) ৮৫০-১০০০ টাকা, চিংড়ি ৫০০-৬০০ টাকা, বোয়াল ৪০০-৫০০ টাকা, কাতল ১৭০-২৮০ টাকা, ফোলি ৩০০-৪০০ টাকা, ও পোয়া ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580