বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:৫৭ অপরাহ্ন

চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও ম্যারাডোনা-স্তুতি

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩ পাঠক পড়েছে

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সে অর্থে দিয়েগো ম্যারাডোনার কোনো অর্জন নেই। তবে যার প্রভাব গোটা খেলাটাতে তো বটেই, আছে বিশ্ব জোড়া মানুষের জীবনেও; তার মৃত্যুদিনে তাকে কি ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের আসর না স্মরণ করে পারে? স্মরণ করেছেও। ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন থেকে শুরু করে ম্যাচ শেষে কোচ-খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া, খেলা ছাপিয়ে তিনিই যেন বড় হয়ে উঠেছেন সর্বত্র!

দুঃসংবাদটা তখন কেবলই ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে। তখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে মাঠে নামার জন্যে গ্রিসের অলিম্পিয়াকোসে গা গরম করছে ম্যানচেস্টার সিটি। খবরটা যখন সে পর্যন্ত পৌঁছাল, তা ছুঁয়ে গেল পেপ গার্দিওলার দলকেও।

ম্যাচশেষে গার্দিওলার প্রতিক্রিয়া, ‘আমার মনে হয় আমি এক বছর আগে আর্জেন্টিনায় একটা ব্যানার দেখেছিলাম, যেখানে লেখা ছিল, তোমার জীবনে তুমি কী করেছ সেটা ব্যাপার না দিয়েগো, তুমি আমাদের জীবনে কী প্রভাব ফেলেছ সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।’ লাতিন আমেরিকার অন্যতম অনগ্রসর, দরিদ্র এক দেশের মানুষকে স্বপ্ন দেখানোটা গুরুত্বপূর্ণ এক প্রভাবই বটে!

সেরার বিতর্কে না গিয়ে গার্দিওলা জানালেন, ফুটবলকে সুন্দর করতে অনন্য প্রভাবই রেখে গেছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তী।

একই রাতে মাঠে নামার আগে মহানায়ককে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে লিভারপুলও। অল রেড কোচ য়ুর্গেন ক্লপ অবশ্য নির্দ্বিধায় সর্বকালের সেরা বলে দিলেন তাকেই। বললেন, ‘অন্যদের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে ম্যারাডোনা সেটা আগেই বুঝে যেতেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্যদের বোঝার আগেই! আমার কাছে দিয়েগো এক জন অবিশ্বাস্য খেলোয়াড়, আর ম্যারাডোনা এক সংগ্রামের নাম। নির্দ্বিধায় তাকে পেলে আর মেসির সঙ্গে সর্বকালের সেরা বলে দেওয়া যায়।’

ফকল্যান্ড যুদ্ধ পরবর্তী ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোলটি তাকে আর্জেন্টিনাসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই পাইয়ে দিয়েছিল কাল্ট হিরোর মর্যাদা। সেদিন তার সরাসরি প্রতিপক্ষ ছিলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড গ্যারি লিনেকার। তবুও ম্যারাডোনার শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতে লিনেকার একটুও কুণ্ঠাবোধ করেননি।

তত্ক্ষণাত্ টুইট তো বটেই, বিটি স্পোর্টসের খেলা পরবর্তী অনুষ্ঠানেও প্রাণভরেই প্রশংসা করেছেন সাবেক বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড। লিনেকারের ভাষ্য, ‘হ্যান্ড অফ গড নিয়ে তর্ক হতে পারে, সে পথ মাড়াচ্ছি না। কিন্তু এর পরের গোলটা যে করল, মনে হলো তার সামনের ৯ জন আদতে খেলোয়াড় নন, অনুশীলন মাঠে থাকা ডামি; এতোটাই অনায়াসে সবাইকে ছিটকে দিয়েছিলেন দিয়েগো। এমন এক গোলে তালি দেওয়া যায়, প্রশংসা করা যায়। কিন্তু সেদিন এটা করলে ইংল্যান্ডের জাতীয় শত্রু বনে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল আমার। এ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যাপারগুলোই ম্যারাডোনাকে অনন্য করে তুলেছিল।’

সে ম্যাচের পর থেকে ম্যারাডোনা ইংল্যান্ডের জাতীয় শত্রুতে পরিণত হয়েছিলেন। সে পাঁড় শত্রুদের এক জন লিনেকারের স্তুতিও আদায় করে ছেড়েছেন আর্জেন্টাইন এ কিংবদন্তী। ম্যারাডোনার বিশালত্ব তো এখানেই!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580