সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ১২:২৯ পূর্বাহ্ন

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে অজ্ঞাত মানসিক প্রতিবন্ধী ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০
  • ১৩ পাঠক পড়েছে

গ্রামের পাশেই বাজার। সকাল বিকেল যখনই বাজারে যাই দেখা মেলে আনুমানিক ২২/২৩ বছরের এক মানষিক প্রতিবন্ধি মহিলার। কখনও ময়লা কাপড় চোপড় শরীরে জড়িয়ে আবার কখনও অর্ধলঙ্গ অবস্থায় ঘুরে বেড়ায় সে। আর মুখে বিড় বিড় করে কি যেন বলে যা বোঝার উপায় নেই। কেউ কিছু বললে কখনও তেড়ে আসে। আবার কখনও দেখা যায় ঠান্ডা মেজাজে। কিন্ত গত ৫ দিন আগে পরিচয়হীন এই প্রতিবন্ধি অসুস্থ হয়ে বিকেল হতে আমাদের গ্রামের রাস্তার পাশে পড়ে ছিল। সে চোখ মেলিয়ে তাকাতে পারলেও তার ছিলনা কোন নড়াচড়া। তাকে দেখতে বিকেল থেকেই লোকজনের ভীড় ছিল। এরপর রাত গভীর হলে উৎসুক জনতা ও পথচারীদের ভীড় কমতে থাকে। কিন্ত সেও তো একটা মানুষ। কারও না কারও সন্তান বা বোন। এটা ভেবে বিবেকের তাড়নায় আমি আর চলে আসতে পারিনি। ওই রাতেই গ্রামের আরও কয়েক জনকে সাথে করে অসুস্থ পাগলীকে নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।
রবিবার বিকেলে সরেজমিনে আমজাদ আলীর বাড়িতে গেলে দেখা যায়, মাটির উপর টিনের ছাউনির একটি ঘরের বারান্দায় স্থির হয়ে বসা রয়েছে এই প্রতিবন্ধি। পাশেই রয়েছে খাবারের একটি থালা। মানুষ সামনে গেলেই শুধু মুখের দিকে ফ্যালফেলিয়ে চেয়ে থাকছে। আর মুখে হালকা শব্দ করে কি যেন বলছে। যা বোঝা যাচ্ছে না।
আমজাদ আলী জানান, আমি একজন গরীব মানুষ। মাঠে কোন চাষযোগ্য জমি নেই। সারা বছর পরের ক্ষেতে কামলার কাজ করে সংসার চালাই। এক মেয়ে আর এক ছেলের মধ্যে মেয়ে লাবনীর বিয়ে দিয়েছেন। আর ছেলে সালমান শাহ রাজমিস্ত্রির কাজ করে। কিন্ত সে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রায় ৬ মাস ধরে শয্যাশায়ী।
আমজাদ হোসেনের স্ত্রী ছাকিরন নেছা জানান, মেয়েদের গর্ভপাতের সময়টা অত্যন্ত কষ্টের। এমন অবস্থায় মেয়েটি পথে পথে ঘুরে বেড়াবে ভাবতেও খারাপ লাগছে। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে পাগলীর থাকার জন্য নিজেদের মত করে ঘর নির্মান করা হচ্ছে। নিজেদেরকে বেশ ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে । তারপরও একজন মা হিসেবে একজন মেয়ের জন্য যা করা দরকার শত অভাবের মধ্যদিয়েও সামর্থ অনুযায়ী তা করছেন।
কোলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ূব হোসেন জানান, বাজারে ওই পাগলী বেশ কিছুদিন ঘোরাফেরা করছে। কিন্ত সে অসুস্থ হয়ে রাস্তার পাশে পড়ে থাকার পর ওই গ্রামের আমজাদ হোসেনসহ বেশ কয়েকজন তাকে নিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। এখন নিজের পরিবারের সদস্যের মত তারা সেবা শশ্রæষা করছেন। এটা শুনেও ভালো লাগছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580