রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন

ঝিনাইদহে হাসানের পত্রিকা বিক্রি করে ডাল-ভাত জোটানোই কষ্ট সাধ্য

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
  • ২ পাঠক পড়েছে

প্রাণীর প্রাণ না থাকলে যেমন চলতে পারে না! পত্রিকা অফিসে বিক্রয় প্রতিনিধি না থাকলে ও অফিস চলে না। তাই পত্রিকা অফিসের হকাররা হচ্ছে পত্রিকার প্রাণ। সংবাদপত্রের ভালোবাসার টানে পত্রিকা বিক্রি করে কোনোরকম ডাল-ভাত খেয়ে জীবনপার করে দিচ্ছে হকারগণ।

মনে অনেক ধরণের আশা-আকাঙ্খা থাকলেও দৈনিক অল্প আয়ের লোক হওয়ায় তাদের স্বপ্নগুলো ফুটে উঠতে পারে না। আর তাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে কেউ ভাবার সময়ও রাখে না। এমনকি পত্রিকা অফিস থেকে শুরু করে পত্রিকার এজেন্সিগুলোর ও তাদের নিয়ে ভাবার সময় নেই।

ঠিক তেমনিভাবে পত্রিকা বিত্রয় করে জীবন কাটাচ্ছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ৩ নং সাগান্না ইউনিয়নের নাথকুন্ডু গ্রামের মৃত্যু আঃ রহিম মিয়ার বড় ছেলে হাসান মিয়া (৩৫)। জানা গেছে ,চুয়াডাঙ্গা ইসলাম পাড়ায় তার শশুর বাড়ি। শশুর বাড়ির এক আত্তীয়র মাধ্যমে ২০০২ সালে চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রকাশিত “একটি আঞ্চলিক” পত্রিকার ডিলার বা এজেন্সি চুয়াডাঙ্গা থানার পেছনে সেলিম আজাদ নামে এক ভদ্রলোকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন।

আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ২০০২ সালে লক্কর ঝক্কর এক বাইসাইকেলও ৫০ টি আঞ্চলিক পত্রিকা নিয়ে শুরু হয় বিক্রয় প্রতিনিধি হিসাবে তার জীবন। তার এ কাজ গুটি গুটি পায়ে আজ দেড় যুগ পেরিয়ে কিন্তু কোন উন্নতি নেই। তার জীবনের সখ-আশা-আকাঙ্খা হইতোবা কোন দিন পুরন হবে কি না তা নিয়ে ভাবেন এই হাসান।

প্রতিদিনই কাক ডাকা ভোর হওয়ার পূর্বেই পৌঁছাতে হয় চুয়াডাঙ্গায়। সেখান থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ডাকবাংলাসহ বিভিন্ন হাট-বাজার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সারাদিন লক্কর ঝক্কর বাইসাইকেলে ঘুরে ঘুরে পত্রিকা বিক্রি করে।

এবিষয়ে ডাকবাংলার পত্রিকা বিক্রয় প্রতিনিধি হাসান “দৈনিক সময়ের সমীকরণ”ডাকবাংলা প্রতিনিধিকে জানান, আমি ২০০২ সাল থেকে আজ প্রায় দেড় যুগ ধরে এই পত্রিকা বিত্রয় করি। একসময় অফিস আমাদের জন্য প্রতি বছরে একটি করে গেঞ্জি ও এক বার খেতে দিতো কিন্তু এখন আর কিছুই দেয় না।

বর্তমানে পত্রিকা কেমন বিক্রি হয় সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, ডিজিটাল যুগে এখন আগেরমত পত্রিকা বিক্রি হয় না। সকলেই স্মার্ট ফোনেই খবর পেয়ে যায়। তাই দিন দিন পত্রিকার পাঠক কমে যাচ্ছে বলে চরম বিপাকে আছি।

ডাকবাংলার কিছু সংবাদপত্র প্রেমীদের কারনেই পত্রিকা বিক্রি করতে পেরে আমার ফ্যামেলিকে কোন মতে বাচিঁয়ে রেখেছি। প্রতিদিন আমি পত্রিকা বিক্রিী করে সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত আয় করি। আর এজন্য সারাদিন পাঠকদের কাছে দৌড়তে হয়। পত্রিকা বিক্রি করে আমার একমাত্র কণ্যা সন্তানকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন দেখছি কিন্তু হবে কিনা আল্লাহ ভালো জানেন।

এবিষয়ে ৩নং সাগান্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আল-মামুন কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদককে জানান, পত্রিকার হকারা হচ্ছে পত্রিকার প্রাণ। তারাই মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ছাপানো পত্রিকাগুলো পৌঁছে দেয়। অতিদরিদ্রদের জন্য সরকারের মহৎ প্রকল্প ঘর নির্মাণ প্রকল্পে প্রতিটি উপজেলায় প্রকৃত পত্রিকা হকারদের একটি করে পাকাবাড়ি দেবার দাবী জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580