সোমবার, ০১ মার্চ ২০২১, ০১:২৮ পূর্বাহ্ন

তানোর পৌরবাসি সুজনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০
  • ৬ পাঠক পড়েছে

রাজশাহীর তানোর পৌরসভা নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মাঝে শুরু হয়েছে ভোটের আমেজ। পৌরবাসী এবার সুজনকে নিয়ে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখছেন। ইতমধ্যে দলের সমর্থন আদায় ও ভোটারদের নজর কাড়তে সম্ভাব্য প্রার্থীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে, এতে পৌরসভার পাড়া-মহল্লায় সম্ভব্য প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠছে। বড় দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএপির নেতারাকর্মীদের মধ্যে লবিং-গ্রুপিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পৌরসভা নির্বাচনে এবার পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজের প্রার্থী চান আওয়ামী লীগ-বিএনপির তৃণমূল নেতা ও কর্মী-সমর্থকগণ।

অপরদিকে তানোর পৌর নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির একাধিক প্রার্থীর নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে মাঠে রয়েছেন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ও বিশিস্ট সমাজ সেবক আওয়ামী লীগের তরুণ নেতৃত্ব আবুল বাসার সুজন ও বিএনপির মেয়র মিজানুর রহমান মিজান এর মধ্যে প্রচার-প্রচারণা এবং জনপ্রিয়তা ও মাঠ দখলে এগিয়ে রয়েছেন আবুল বাসার সুজন। এদিকে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ওই সময়ে ভোট করার প্রস্তুতি নিয়েছে। এই লক্ষ্যে গত ২৩ আগষ্ট রোববার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় ইসি সচিবালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে কমিশন। আর সেই সময়ের কথা ভেবে মাঠে নেমেছেন নেতারা। বিশেষ করে করোনা মহামারির মধ্যে কর্মহীন, মানুষের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, এলাকার বিভিন্ন মসজিদ- মাদরাসা, ঈদগাহ-মন্দির ও রাস্তা মেরামত করে ভোটারদের মধ্যে আস্থা-বিশ্বাসের একটা আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন আবুল বাসার সুজন তিনি ভোটারদের কাছে পচ্ছন্দের শীর্ষে রয়েছেন। পৌরবাসী এবার সুজনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন।মুলত নির্বাচনের সকল আলোচনা সুজনকে ঘিরেই আবর্তিত হচ্ছে। এলাকার খেলা-ধুলা, মসজিদ-মন্দির- ঈদগাহ-কবরস্থান এতিমখানাসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও রাস্তা-ঘাট সংস্কার, অসুস্থদের আর্থিক অনুদান এবং করোনা ভাইরাস ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে সুজন তার সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন, যেখানে অন্যদের কোনো ভুমিকায় নাই বলে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

ইতমধ্যে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে প্রার্থীরা এসব নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটযুদ্ধে বিজয়ী হবার কৌশল ও পরিকল্পনাও করে চলেছেন বেশ জোরে সরে। তবে আওয়ামী লীগ থেকে একক প্রার্থী দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংগঠনিক কর্মকান্ড জোরদার ও ভোট ব্যাংকের পরিধি বৃদ্ধিতে অধিক গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপি থেকে মিজান ছাড়াও আরো একাধিক প্রার্থীর তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে এরা হলেন বিএনপি নেতা মশউর রহমান বাদল রহমান ও তানোর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল মালেক মন্ডল এরা প্রার্থী হবেন বলে গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেছে। এবিষয়ে স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, দেশ রত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পালন করতে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ইমেজ, উচ্চ শিক্ষিত, তরুণ, মেধাবী ও উন্নয়ন মানসিকতা সম্পন্ন নেতৃত্ব প্রার্থী করা হবে। তিনি আরো বলেন, এবার বিদ্রোহী প্রার্থী যেনো কেউ না হতে পারে সে বিষয়গুলো বিবেচনা করেই পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী দেয়া হবে বলে আশা করছি। এদিকে তানোর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ব্যানারে প্রার্থী হতে চান পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমরুল হক ও পৌর যুবলীগের সভাপতি রাজিব সরকার হিরো। তবে প্রকাশ্যে তাদের তেমন কোনো তৎপরতা নাই। এবিষয়ে রাজিব সরকার হিরো বলেন, তিনি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন চাইবেন দেয়া না দেয়া সেটা দলের বিষয়,তবে দল যাকে মনোনয়ন দিবেন তারা তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। তানোর উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল মালেক বলেন, বর্তমান মেয়রের সময়ে বিগত ৫ বছরে পৌরসভা এলাকায় দৃশ্যমান তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত মানুষের দুঃখ দুর্দশার ও তাদের চাওয়া-পাওয়া পুরুণে তিনি দলীয় মনোনয়ন চাইবেন এবং না পেলেও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।অন্যদিকে দিনবদলের স্লোগান এবং পরিবর্তনের অঙ্গীকার ও মডেল পৌরসভায় রুপান্তরিত করার প্রত্যয় নিয়ে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী ও বিশিস্ট সমাজ সেবক আওয়ামী লীগের তরুণ নেতা আবুল বাসার সুজন নির্বাচনের মাঠে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়েছেন। স্থানীয় সাংসদের জনপ্রিয়তা,আওয়ামী লীগের বিপুল জনসমর্থন ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্বাচনী কৌশল এবং রাজনৈতিক দুরদর্শীতা কাজে লাগাতে পারলে সুজনের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।

অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও তানোর পৌর মেয়র মিজানুর রহমান মিজান বলেন, তানোর পৌরসভার মানুষ বিএনপির রাজনীতিকে ভালবাসেন। তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিজয়ের ব্যাপারে তিনি শতভাগ আশাবাদী। এদিকে প্রার্থী মনোনয়নে দলীয় সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেবেন বলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় দলের নীতিনির্ধারনী মহল জানিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যদি কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন তবে তার বিরুদ্ধে দলীয় ভাবে সাংগঠনিক ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে।

সরেজমিন, পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পৌরবাসী দলকানা ও আবেগের বশবর্তী হয়ে আর কোনো ভুল করতে চাই না। এবার তারা উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সারাদেশের ন্যায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে সরকার দলীয় প্রার্থীকে পৌর পিতার আসনে বসাতে চাই। তানোর উপজেলা বিসিআইসি সার ডিলার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী বাবু বলেন,যেহেতু এটা সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয় সেহেতু নাগরিক এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সরকার দলীয় প্রার্থীকেই বিজয়ী করতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580