বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৭:৪৫ অপরাহ্ন

পুরনো আমলনামা বিচারে নিউ নরমাল ফল

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১৮ পাঠক পড়েছে

পরীক্ষা ছিল না। তবুও পাস। জিপিএ ফাইভ পাওয়ার আনন্দ। এমনও হয়? হলো কিন্তু এবার। বিচিত্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এইচএসসির গণ্ডি পার করল ১৪ লাখ শিক্ষার্থী।

এর আগের ঘটনা সবার জানা। কোভিডের ঘায়ে তছনছ হয়ে গিয়েছিল শিক্ষা কার্যক্রম। স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় সবই বন্ধ। সেই কবে বন্ধ হয়েছিল আজও চালু করা সম্ভব হয়নি। একই কারণে চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল এইচএসসি। পরীক্ষা হবে কিনা, হলে কবে হবে, কোন প্রক্রিয়ায় হবে? অযুত প্রশ্ন। উত্তর জানা ছিল না কারও। সবাই পর্যবেক্ষণ করছিলেন কোভিড-১৯ পরিস্থিতি। অবশেষে দমবন্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি দেয় শনিবার প্রকাশ করা টকমিষ্টি ফল। নিউ নরমাল ফল যারপরনাই অভিনব। শতভাগ পাস! ফেল করেনি কেউ।

জানা যাচ্ছে, পুরনো আমলনামা দেখে নতুন এ ফল তৈরি করা হয়েছে। বিগত পাবলিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা যে ফল করেছিল, তার আলোকে ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের শিক্ষার্থীদের মেধার মূল্যায়ন করা হয়েছে। সাধারণ ও মাদ্রাসা বোর্ডের ক্ষেত্রে জেএসসি ও সমমান এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়গুলোকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে ফল প্রস্তুত করা হয়েছে। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমান এবং একাদশ শ্রেণীর পরীক্ষার বিষয়গুলোকে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রস্তুত হয়েছে ফল। তারও আগে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করতে হয়েছে। তারপর শনিবার একযোগে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

আগেরবার ২০১৯ সালে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তার আগের বছর ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। এবার সবাই পাস। তদুপরি জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ শিক্ষার্থী। গতবার এই সংখ্যা ছিল ৪৭ হাজার ২৮৬। তার আগেরবার ছিল ২৯ হাজার ২৬২। অর্থাৎ, এবার আনন্দের ভাগটাই বেশি। বিশেষ করে যাদের প্রস্তুতি ভাল ছিল না, পরীক্ষা নিয়ে ভীষণ আশঙ্কায় ছিল তাদের কাছে এর চেয়ে মিষ্টি ফল আর হয় না! জিপিএ ফাইভ পেয়েছে যারা তাদের কিছুটা আক্ষেপ আছে। পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়ে নিজেকে প্রমাণ করা হয়নি। তবে মুক্তির স্বাদ পেয়েছে তারা। এইচএসসির কূল-কিনারা হওয়ায় এখন সামনের দিকে তাকাতে পাচ্ছে তারা।

তবে অন্যান্য বারের মতো উদ্যাপন চোখে পড়েনি এবার। ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এদিনও বন্ধ ছিল। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমবেত না হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল শিক্ষার্থীদের। তাই ফল ঘোষণার দিন ক্যাম্পাসে কোন হৈ-হুল্লোড় ছিল না। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার আনন্দে কেউ কাউকে জড়িয়ে ধরেনি। বাদ্য বাজনা নাচ জয়ধ্বনি সবই কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছিল। ঘটা করে মিষ্টি বিতরণ করতেও দেখা যায়নি। যতদূর খবর- ঘরোয়াভাবে সাদামাটাভাবেই হয়েছে উদ্যাপন।

এর বাইরে ফল ঘিরে আছে কিছু হতাশাও। সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে জিপিএ ফাইভ হারিয়েছে ৩৯৬ শিক্ষার্থী। অথচ পরীক্ষা দিতে পারলে ভাল করার সুযোগ ছিল। সুযোগটি না পেয়ে আফসোস করছে তারা। তাদের কাছে এইচএসসির ফল এবার টক। টক মিষ্টি স্বাদের বাইরে পরীক্ষা ছাড়া পাস করার অভিজ্ঞতাটুকুও হয়ত সারা জীবন মনে রাখবে শিক্ষার্থীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580