সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ন

প্রধান প্রকৌশলী নেই ইইডিতে, কাজে স্থবিরতা

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১ পাঠক পড়েছে

প্রধান প্রকৌশলীর পদ ফাঁকা থাকায় স্থবির হয়ে পরেছে শিক্ষার খাতের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর (ইইডি)। গত ১৯ নবেম্বর ইইডির প্রধান প্রকৌশলী বুলবুল আখতার অবসরে গেছেন। এরপর ওইপদে কাউকে চলতি কিংবা রুটিন দায়িত্বও দেয়া হয়নি। ফলে আপদকালীন কাজ চালানোর মতো কেউ না থাকায় সংস্থাটি বেশ জটিলতার পড়েছে।

জানা গেছে, প্রধান প্রকৌশলী পদে চলতি দায়িত্বেও কেউ না থাকায় জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। বছরের শেষ প্রন্তে এসে অবকাঠামো নির্মাণে নতুন দরপত্র আহবান, পুরনো দরপত্রের নিস্পত্তি, ঠিকাদারদের বিল ছাড়াকরণ, বিভিন্ন কেনাকাটায় অনুমতি, ডিজাইন ও ড্রয়িং অনুমোদন ছাড়াও ইইডির সব ধরণের প্রশাসনিক কাজে স্থবিরতা বিরাজ করছে। শীর্ষ পদ ফাঁকা থাকায় রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে শিক্ষা ভবনে অবস্থিত ইইডির প্রধান কার্যালয়ে অলস সময় পার করছেন প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারাও।

এক নির্বাহী প্রকৌশলী বলছিলেন, ডিসেম্বর মাসের ১২দিন চলে গেছে। প্রতিবছর এই সময়ে ইইডির আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের দফতরের অনুকুলে অবকাঠামো নির্মাণকাজের টাকা ছাড় করা হয়। এই প্রক্রিয়া নিস্পত্তি করা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার এবং অনুমোদনের প্রতিটি স্থরেই প্রধান প্রকৌশলীর পরামর্শ ও দিকনির্দেশনার প্রয়োজন হয়। কিন্তু এবার এখনও এই প্রক্রিয়া শুরু করা যাচ্ছে না। আবার বিল পেতে ঠিকাদাররাও মাঠ পর্যায়ের প্রকৌশলীদের ওপর নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করছেন।

ইইডির প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শনিবার রাতে জনকণ্ঠকে বলেন, হ্যা কাউকে দায়িত্ব দেয়াটা প্রয়োজন। আশাকরি দু‘একদিনের মধ্যেই কাউতেক দায়িত্ব দেয়া সম্ভব হবে।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, বিদায়ী প্রধান প্রকৌশলী চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের আবেদন করেছিলেন। নানাভাবে চেষ্টাও করেছিলেন, তবে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে ওই আবেদনে সারা মেলেনি। এ কারণে নতুন প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগে দেরি হয়েছে। তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের চেষ্টা নিয়ে নানা অভিযোগও সামনে এসেছে।

একটি অসাধূ চক্রকে ‘ম্যানেজ’ করে নিয়োগের চেষ্টাও নজরে এসেছে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। তবে তার পরিবারের সঙ্গে জামায়াতের রাজনীতির সম্পৃক্ততারও খবর এসেছে। এসবই ওই কর্মকর্তার ফাইল সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ফেরত আসার কারন বলে জানা গেছে।

করোনার ছোবল আর প্রধান কর্মকর্তার অদক্ষতা, অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে এমনিতেই সাম্প্রতিক সময়ে স্থবির হয়ে পড়ছে শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ন এ প্রতিষ্ঠানের মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম। কার্যাদেশ দেয়া হলেও দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ এক-দেড় বছরেও শুরু হয়নি। কেন্দ্র থেকে মনিটরিং না হওয়া, ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখা, ‘ড্রয়িং ও ডিজাইন’ অনুমোদনে গড়িমসি, শীর্ষ কর্মকর্তা নিয়মিত দফতরে না বসাসহ নানা করণে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো কার্যক্রমে। এদিকে কোন কোন ঠিকাদারও বিল নিয়ে কাজ আটকে রেখেছেন।

অথচ তাও দেখার কেউ নেই। গত প্রায় দেড় বছর ধরে ঠিকাদারদের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন অবকাঠামো নির্মাণের প্রতিটিতেই হয়রানির অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারদের। তদ্বির ছাড়া ‘ড্রয়িং’ ও ‘ডিজাইন’ পাচ্ছেন না ঠিকাদাররা। আবার বিলম্বে কার্যাদেশ পেয়েও অনেক ঠিকাদার কাজ শুরু করতে পারছেন না। ইইডির শীর্ষ পর্যায়ের গাফিলতি ও অদক্ষ্যতার সংস্থার ৬৫টি আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রকৌশলীরা পরেছেন বিপাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580