সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ১১:২৬ পূর্বাহ্ন

বিলুপ্তির পথে কাঁসা-পিতল।

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৭৭ পাঠক পড়েছে

স্বর্ণ নয় কিন্তু তার মতই চকচকে। একসময় স্বর্ণের পরেই ছিল যার অবস্থান; ছিল আভিজাত্যের মর্যাদা। কিন্তু কালের পরিক্রমায় সেই কাঁসা-পিতলের ঐতিহ্যবাহী সামগ্রী বিলীন হতে বসেছে। মাত্র দু’তিন দশক আগেও এসব প্রাচীন ধাতব পণ্যের যে সমাদর ছিল তা যেন কালের অতলে হারিয়ে যাচ্ছে। এখন খুঁজে পেতে রীতিমতো অনুসন্ধান করতে হয়।বিক্রমপুরের লৌহজংয়ে পদ্মার কড়াল ঘ্রাসে আজ অনেকটাই নিঃস্ব এই পেশার মানুষগুলো। সাধ থাকলেও সাধ্য যেন অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে তারা। দিঘলীর পালের বাজার আর লৌহজংয়ের নাগের হাটের দেড় শতাধিক তামা-কাঁসা আর পিতলের দোকান ও কারখানা এখন এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৬টি দোকানে ও ৩টি কারখানায়। তাও আবার সেগুলো অর্থের অভাবে বিলীন হতে বসেছে।হাতুরি আর ঝনঝনানির শব্দে আজ আর কারোও ঘুম ভাঙে না। অথবা সময় হয়েছে কাজে যেতে হবে এমনটিও মনে হয় না কারো। এখন আর পালের বাজার নেই বা নাগের হাটের নাগ পরিরারও যেন ঘুমিয়ে পরেছে অনেক আগেই।কনকসার বাজারের কাসারু পট্টির মো. রিয়াজ মাল ৩০ বছর ধরে কারিগর হিসেবে এ পেশায় নিয়োজিত আছেন। মালিকরা অনেকেই এই ব্যবসা ছেড়ে দেয়ায় তিনি নিজেই মালিক হিসেবে এই ব্যবসার হাল ধরেছেন, তাতেও যেন শেষ রক্ষা হচ্ছে না। কারণ অর্থের অভাবে এই শিল্প এখন অনেকটাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। এছাড়া পদ্মার ভাঙনে পালের বাজার বিলীন হওয়ার পর থেকেই এ ব্যবসার অনেকটা ধস নেমেছে। অন্যদিকে মেলামাইন আর ঝকঝকে স্টিলের ব্যবহারে, তামা কাঁসা আর পিতলের ব্যবহার অনেক কমে গেছে।এক সময়ের হাঁড়ি-পাতিল, পুজার বাটা, মালসা, পুজার কলস, গ্লাস, থালা, পানের বাটা, মগ, কুপি বাতি, কলস ও চারি তৈরি করা হতো এবং এসব জিনিসের খুব কদরও ছিল। কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে এসব পুরোনো ঐতিহ্য।মার্কেটে এ জাতীয় জিনিসের চাহিদা হলে তখন সে অনুযায়ী প্রতি সপ্তাহে ৮/১০ মণ মাল তৈরি করতে পারে একজন ব্যবসায়ী। বর্তমানে বাজারে তামার দর রয়েছে ৬৫০ টাকা, কাঁসা ১,৬৫০ টাকা, পিতল ৪৯০ টাকা। এসব জিনিসের চাহিদা বাজারে খুব একটা না থাকায় আগ্রহ হারাচ্ছে অনেকেই। আবার অনেকেই অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে সবকিছু গুটিয়ে।এ শিল্পের সাথে ৩০ বছর ধরে জড়িত নাগের হাটের গোবিন্দ্র কংশ বণিক বলেন, “আমার পরিবার এই শিল্পের সাথে ২০০ বছর জড়িত। আমি হচ্ছি পঞ্চম প্রজন্ম। আমি এখনও চেষ্টা করছি এ শিল্প চালিয়ে যাওয়ার।”লৌহজংয়ের এসব কারখানার মালিকরা জানান, অর্থের অভাবে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি একসময় কালের গর্ভে হারিয়ে যাবে। ব্যবসায়ীদের দাবি, এ শিল্প বাঁচাতে এবং তাদের আর্থিক সহযোগিতা দিতে সরকারি ব্যাংকগুলো এগিয়ে এলে এবং সহজ শর্তে তাদের ব্যাংকলোনের ব্যবস্থা করে দিলে শিল্পটি বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580