সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

মানব উন্নয়ন সূচকে ৩০ বছরে ৬০ শতাংশের বেশী অগ্রগতি

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : সোমবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১ পাঠক পড়েছে

মানব উন্নয়ন সূচকে দুই ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। মানব উন্নয়ন সমীক্ষা-২০২০ এ গত বছরের চেয়ে আরও ২ ধাপ এগিয়ে ১৩৩তম অবস্থানে রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় ৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। তবে পরিবেশের প্রভাবজনিত সমন্বিত মানব উন্নয়ন সূচক অনুযায়ী আরও ৯ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানব উন্নয়নে বাংলাদেশের অর্জন অসাধারণ। ১৯৯০-২০১৯ সাল পর্যন্ত মানব উন্নয়ন সূচক শতকরা ৬০.৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সূচকের মান মধ্যম সারির দেশগুলোর গড় মানের চেয়ে বেশি ছিল।

১৯৯০-২০১৯ সাল নাগাদ বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বেড়েছে ১৪.৪ বছর, গড় শিক্ষাকাল বেড়েছে ৩.৪ বছর এবং প্রত্যাশিত শিক্ষাকাল বেড়েছে ৬ বছর। এছাড়া এসময়ে মাথাপিছু আয়ের পরিমাণও বেড়েছে প্রায় শতকরা ২২০.১ ভাগ।

পরিকল্পনা মন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান রিপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার পরিবেশ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় সবসময় গুরুত্ব দিয়েছে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে বলে জানায় ইউএনডিপির একটি বিজ্ঞপ্তি।

ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি সুদিপ্ত মুখার্জি বলেন, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ অতিমারিতে এখনও পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করলেও প্রাণহানির পাশাপাশি অতিমারি জনিত সামগ্রিক প্রভাব আরও অনেক বিস্তৃত ও প্রকট। বহু পরিবার জীবিকা হারিয়ে দারিদ্র সীমানার নিচে নেমে গেছে, আয় অসমতা বেড়েছে, লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতা বেড়েছে এবং লেখাপড়া থেকে দীর্ঘ বিরতির কারণে ছাত্রছাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশের ওপর মানুষের বিরূপ আচরণকে আমলে নিয়ে বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই এরকম একটি অতিমারীর আশঙ্কা করছিলেন। এই সমীক্ষাটি আমাদেরকে দেখিয়েছে যে পরিবেশ সম্মত উপায়ে উন্নয়ন পরিচালনা করা অর্থ মানুষ বা প্রকৃতির মধ্যে যে কোনও একটিকে বেছে নেওয়া নয় বরং একটি সমন্বিত কৌশল অবলম্বন করা।

অনুষ্ঠানে ইউএনডিপির সিনিয়র ইকোনোমিক অ্যাডভাইসর বালাজ হোভার্থের সমন্বিত মানব উন্নয়ন সূচক সম্পর্কিত একটি প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা হয়।

মানব উন্নয়ন সমীক্ষা ২০২০-এর এই বছরের শিরোনাম ‘দ্য নেক্সট ফ্রন্টিয়ার: হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এনথ্রোপোসিন।’ রিপোর্টটি আন্তর্জাতিকভাবে উন্মোচনের ছয় দিন পর ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। এবারের সমীক্ষায় পরীক্ষামূলকভাবে নতুন একটি সূচক সংযোজন করা হয়েছে। মানব উন্নয়ন সূচকের মাধ্যমে মূলত একটি দেশের মানুষের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জীবনযাত্রার সামগ্রিক অবস্থা পরিমাপ করা হয়, তবে এবার মানব উন্নয়ন সমীক্ষা প্রবর্তনের ৩০ তম বার্ষিকীতে দুটি বিষয় নতুন ভাবে যুক্ত করা হয়েছে- কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের মাত্রা ও মোট ব্যবহৃত সম্পদের পরিমাণ।

এই সমন্বিত পদ্ধতি থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে মানুষ ও পরিবেশ উভয়ের কল্যাণের ওপর ভিত্তি করে মানব উন্নয়নকে চিন্তা করলে সমগ্র বিশ্বের উন্নয়নের চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। যেমন এ বছর ৫০টির ও বেশি দেশ জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অধিক নির্ভরশীলতা ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে রাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান থেকে ছিটকে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমীক্ষাটি প্রকাশের সময় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির প্রধান আকিম স্টেইনার বলেন, ‘পৃথিবীর প্রতিটি দেশই পরিবেশেকে ধ্বংস করে মানব উন্নয়নে সমৃদ্ধি লাভ করেছে। তবে প্রথম প্রজন্ম হিসেবে আমরা এই ভুল সংশোধনে এগিয়ে আসতে পারি। এটিই হওয়া উচিত মানব উন্নয়নের পরবর্তী পদক্ষেপ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580