মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০১:৪৭ অপরাহ্ন

রাজশাহীর বাগমারার মোহনগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ”

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৫ পাঠক পড়েছে

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার মোহনগঞ্জ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ তরফদারের বিরুদ্ধে শিক্ষক-কর্মচারি নবায়নের তালিকা ও সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহে পাঠানো চিঠিতে গভর্ণিং বডির সভাপতির জাল স্বাক্ষর করার অভিযোগ উঠেছে। ওই তালিকায় দেওয়া হয়েছে ভূয়া শিক্ষকের নাম।
এছাড়াও উপবৃত্তির জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি গোপনে এককালিন বিক্রি ও লিজ দিয়ে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। রাজশাহী আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে এসব অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি। তিনি ২০১৯ইং সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী থেকে ২০২০ইং সালের (১৮ই জুন) পর্যন্ত কলেজের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।গত (৩০শে সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন দপ্তরে দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, গত (১২ই ফেব্রুয়ারী) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক ড. মনিরুজ্জামন মোহনগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর চিঠি দেন। চিঠিতে কলেজের স্নাতক (পাস) শিক্ষা কার্যক্রমে ২০২০-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে বিএ, বিএসএস এবং বিবিএস কোর্সের অর্ন্তভূক্ত ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামিক শিক্ষা, ভূগোল, পরিসংখ্যান, হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা এবং মার্কেটিং বিষয়ে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নেয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে প্রতিটি বিষয়ে তিনজন করে শিক্ষক উন্নীত করে কাগজপত্র পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়।
সূত্র জানায়, সেই চিঠির জবাব দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক বরাবর চিঠি দেন অধ্যক্ষ। গত (২০ই ফেব্রুয়ারী) পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে বিধি মোতাবেক সকল বিষয়ের তিনজন করে শিক্ষক কর্মরত আছেন। তবে আগে ভূলক্রমে শুধুমাত্র এমপিওভূক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের নবায়নের জন্য পাঠানো হয়েছিল। এই চিঠির সঙ্গে ৮৪ জন শিক্ষক ও কর্মচারিদের নতুন তালিকা নবায়নের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট দফতরসমূহে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ১২ জন প্রভাষককে নন এমপিওভূক্ত উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ জন ভূয়া শিক্ষক। বিভিন্ন দফতরে অধ্যক্ষের পাঠানো এই চিঠি এবং নবায়নের জন্য পাঠানো শিক্ষক-কর্মচারিদের তালিকায় সভাপতির জাল স্বাক্ষর করা হয়েছে।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিধি অনুযায়ী মোহনগঞ্জ ডিগ্রী কলেজ থেকে ৮৮ জন উপবৃত্তি পাওয়ার কথা। কিন্তু জালিয়াতি করে ১২৭ জনকে সেটি দেয়ার জন্য নাম পাঠানো হয়। এছাড়াও উপবৃত্তির টাকা দেয়ার জন্য কলেজের প্রায় আড়াশ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। ফলে এলাকার জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গভর্ণিং বডির সভাপতি এবং সদস্য সচিবের যৌথ স্বাক্ষরে প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংকে একটি হিসাব খোলার নিয়ম থাকলেও অধ্যক্ষ কলেজের নামে দুরবর্তী ব্যাংকে ২টি এবং নিকটবর্তী ব্যাংকে ১টি ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করে আসছেন। তিনটি ব্যাংক হিসাব তিনি নিজে এবং অন্য একজন শিক্ষকের স্বাক্ষরে পরিচালনা করে থাকেন।এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের তহবিল, সম্পত্তির দলিলপত্র, শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়োগ সংক্রান্ত রেজুলেশন খাতা, গভর্ণিং বডির সভার কার্যবিবরণী বহি ও নথিপত্র গোপন করে রেখেছে। গভর্ণিং বর্ডির সভায় একাধিকবার তার কাছে রেকর্ডপত্র প্রদর্শনের চাহিদা দেওয়া হলেও সম্পত্তির দলিলপত্র ও রেকর্ডপত্র উপস্থাপন করেনি। আর কলেজের জমিতে মার্কেট নির্মাণের নামে পজিশন ও সম্পত্তি এককালীন বিক্রয় ও গোপনে লিজ দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১ কোটি টাকা ক্ষতিসাধন করেছেন।বাগমরার গনিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘উপবৃত্তির জন্য তার ভাতিজির কাছ থেকে ৩০০ টাকা নেয়া হয়েছে। টাকা দিতে না চাইলে অধ্যক্ষ নাম পাঠাবে না বলে জানিয়ে দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে টাকা দিতে হয়েছে।’’নাম প্রকাশ না করার শর্তে কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষ কলেজে অনিয়মের আখড়ায় পরিনত করেছে। অনিয়ম নিয়ে কেউ কিছু বলতে গেলে চাকরিচ্যুতের হুমকি দেয়। সে কারণে কেউ প্রতিবাদ করে না। এছাড়াও গভর্ণিং বডির নির্দেশনার তোয়াক্কা করেন না অধ্যক্ষ।কলেজের সভাপতি বদিউল আলম বলেন, ‘‘শিক্ষকের কোরাম পুরণ করতে অধ্যক্ষ তালিকায় ভূয়া শিক্ষকের নাম দিয়েছে। ওই তালিকা ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে আমার জাল স্বাক্ষর করা হয়েছে। এ নিয়ে অধ্যক্ষকে শোকড করা হয়েছিল।’’তিনি আরও বলেন, ‘‘গভর্ণিং বর্ডির একাধিক সভায় প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব, সম্পদ ও সম্পত্তির দলিলপত্রসহ অন্যান্য রেকর্ডপত্র প্রদর্শণের জন্য অধ্যক্ষকে বলা হয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষ সেগুলো প্রদর্শন না করে গোপন করে রেখেছেন।’’সভাপতির জাল ও ভূয়া শিক্ষকের নাম তালিকায় অন্তভূক্ত করার বিষয়ে শোকজের জবাবে অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ বলেছেন, ‘‘সভাপতির জাল স্বাক্ষর ও ভূয়া শিক্ষকের নাম দেয়ার সঙ্গে আমার কোন সংপৃক্ততা নেই। একজন শিক্ষক কলেজের নবায়নের সার্থে সভাপতির জাল স্বাক্ষর ও কয়েকজন শিক্ষকের নাম অন্তভূক্ত করেছেন। ’’তবে প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডপত্র গোপন, সম্পত্তি বিক্রি ও লিজ দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে একাধিকবার যোগাযোগর চেষ্টা করে অধ্যক্ষের দুইটি মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580