মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০১:১৯ অপরাহ্ন

রাজশাহী এএইচএম কামরুজ্জামান চিড়িয়াখানায় সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধ,চলছে অবাধে বৃক্ষ নিধন

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০
  • ১২ পাঠক পড়েছে

রাজশাহী চিড়িয়াখানায় সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধ । রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানার পুরনো গাছ সাবাড় হচ্ছে। কয়েক দিন ধরেই একদল শ্রমিক কেটে নিয়ে যাচ্ছেন মূল্যবান এসব গাছ। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর চিড়িয়াখানায় সাংবাদিক প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেছে কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগ উঠেছে, দরপত্র ছাড়া এরই মধ্যে কেটে নেয়া হয়েছে শতাধিক বড় বড় মূল্যবান গাছ। গাছগুলো কাটছেন রাজশাহী নগরীর লক্ষ্মীপুর ভাটাপাড়া এলাকার রবিন নামের এক ব্যবসায়ী।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় এক সপ্তাহ সময় ধরে নির্বিচারে গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন রবিনের লোকজন। এতে বিশেষত্ব হারাচ্ছে উদ্যান।

চিড়িয়াখানা পরিচালনা করছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। অভিযোগ উঠেছে, এ কাণ্ডের পেছনে রয়েছেন চিড়িয়াখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত রাসিকের কর্মকর্তারা। তারাই প্রায় আট লাখ টাকায় গাছগুলো বিক্রি করেছেন। পানির দরে গাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র বলছে, চিড়িয়াখানার এ জায়গাটি বৃটিশ আমলে ঘোড় দৌড়ের মাঠ ছিল। ঘোড়ার রেস ও টমটম বন্ধ হওয়ার পর এই রেসকোর্স ময়দান পরিত্যক্ত ছিল দীর্ঘদিন। নগরবাসীর বিনোদনের আদর্শ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে তৎকালীন মন্ত্রী শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান এখানে কেন্দ্রীয় উদ্যান ও চিড়িয়াখানা নির্মাণের উদ্যোগ নেন। এরপর ১৯৭২ সালে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্যানের সৌন্দর্য্য বাড়াতে বহু মূল্যবান গাছের চারা রোপণ, ফুল গাছের কোয়ারি ও কুঞ্জ তৈরি, লেক ও পুকুর খনন, কৃত্রিম পাহাড় তৈরির কাজ ১৯৭৪ সালে শুরু হয়। ওই সময় কিছু দুষ্প্রাপ্য বৃক্ষরোপণ করা হয় উদ্যানে। সম্প্রতি ওইসব গাছের বেশকিছু কাটা পড়েছে নভোথিয়েটার নির্মাণের জায়গা করে দিতে। আর এখন উন্নয়ন কাজের নামে উজাড় হচ্ছে শতাধিক গাছ।

সাংবাদিক পরিচয়ে চিড়িয়াখানায় গেলে প্রবেশে বাধা দেন নিরাপত্তাকর্মীরা।তারা জানান সাংবাদিক প্রবেশ নিষেধ আছে উপর মহল থেকে।

দায়িত্বরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার সিরাজুল ইসলাম জানান, চিড়িয়াখানায় সাংবাদিকদের প্রবেশ নিষেধ করেছে কর্তৃপক্ষ। তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন চিড়িয়াখানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা আলমগীর কবির। তিনি কর্তার আদেশ পালন করছেন মাত্র।

পরিচয় গোপন করে বৃহস্পতিবার সকালে চিড়িয়াখানায় ঢুকতেই চোখে পড়ে উদ্যানজুড়ে গাছ কাটার দৃশ্য। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা কাটা ডালপালা, গাছের গুঁড়ি সরাতে ব্যস্ত শ্রমিকরা।

একদল শ্রমিক ঘড়িয়ালের পুকুরের পাশে বড় বড় মেহগনি গাছ কাটছিলেন। কিছু শ্রমিক সরাচ্ছিলেন কেটে নেয়া গুঁড়ি। এ কর্মযজ্ঞে যুক্ত প্রায় ৩০ জন শ্রমিক। আশপাশের প্রায় সব গাছে লাল রঙ দিয়ে নম্বর দেয়া। নম্বর দেয়া সব গাছ পর্যায়ক্রমে কাটার কথা জানান কর্মীরা।

উদ্যানের ভেতরে কৃত্রিম পাহাড়ের আশপাশে পড়ে রয়েছে কেটে নেয়া গাছের ডালপালা। এক পাশে গাছ কাটা গর্ত মাটি দিয়ে ভরাট করছিলেন শ্রমিকরা।

নাম প্রকাশ না করে গাছ কাটায় নিযুক্ত এক কর্মী জানান, রবিন নামের এক ব্যক্তি গাছগুলো কাটার কাজ পেয়েছেন। গত বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকে তারা গাছ কাটছেন। চিড়িয়াখানার ভেতরে তাদের ২০০ গাছ কাটার অনুমতি রয়েছে।

জানতে চাইলে রাসিকের উদ্যান পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি সাংবাদিকদের বলেন, পার্কের ভেতর কিছু প্রবেশ করতে কিংবা বের করতে হলে আমাকে জানাতে হবে। কিন্তু গাছ কাটার বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। যোগাযোগ করা হলে গাছ কাটা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি ব্যবসায়ী রবিন।

এ বিষয়ে উদ্যানের উদ্ভিদতত্ত্ববিদ হেলেন খাতুন সাংবাদিকদের বলেন, বোটানিক্যাল গার্ডেনে সাধারণত সব বিরল প্রজাতির গাছ থাকতে হয়। এতো সাধারণ গাছ থাকার তো দরকার নেই। এজন্য গাছগুলো কাটা হচ্ছে। সেখানে বিরল প্রজাতির গাছ লাগানো হবে। তবে টেন্ডার হয়েছে কিনা- এ ব্যাপারে রাসিকের কর্মকর্তারা বলতে পারবেন।

যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি চিড়িয়াখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবির বলতে পারবেন বলে জানান রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান।

যোগাযোগ করা হয় চিড়িয়াখানা দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও রাসিক মেয়রের একান্ত সচিব আলমগীর কবিরের সঙ্গে। তিনিও গাছ কাটা নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে চিড়িয়াখানায় সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন নির্দেশ তিনি দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580