শুক্রবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ০৬:৩২ পূর্বাহ্ন

শতভাগ পাস ॥ জিপিএ-৫ বেড়েছে তিনগুণের বেশি

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : রবিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২১
  • ৫৫ পাঠক পড়েছে

প্রাণঘাতী করোনার ছোবলের কারণে নেয়া সম্ভব হয়নি গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। পরীক্ষার বিকল্প হিসেবে পরীক্ষার্থীদের সর্বশেষ অষ্টম শ্রেণীর সমাপনী এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল মূল্যায়নে উত্তীর্ণ হয়েছে এইচএসসি ও সমমানের সকল পরীক্ষার্থী। অর্থাৎ পাস করেছে শতভাগ। ২০১৯ সালে পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আগের দুই পরীক্ষার বিষয়ভিত্তিক নম্বর বিবেচনায় ফল প্রকাশে আগের বছরের তুলনায় তিন গুণের বেশি বেড়েছে সর্বোচ্চ স্কোর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা। আগের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ ছিল ৪৭ হাজার ২৮৬ জন। এবার পেল এক লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ পরীক্ষার্থী।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে পরীক্ষা না নিয়ে দুই পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল তৈরিতে ‘সাবজেক্ট ম্যাপিং’ করায় আগের ওই দুই পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও এবার ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাননি। জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পেলেও এবারের মূল্যায়নের ফলে ১৭ হাজার ৪৩ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। যদিও আগের প্রতিটি পরীক্ষাতেই তার আগের পরীক্ষার তুলনায় জিপিএ-৫ কমার সংখ্যা ছিল আরও কয়েকগুণ বেশি। যেমন জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও ২০১৭ সালে ১৭ হাজার ৩৭১ জন, ২০১৮ সালে ৫২ হাজার ৬৩৪ জন এবং ২০১৯ সালে ৪৫ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ফলের কপি হস্তান্তর করেন শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির প্রধানসহ শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানরা। প্রধানমন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে গণভবন থেকে অনলাইনে ফল ঘোষণার উদ্বোধন করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব মাহবুব হোসেনের পরিচালনায় অপর প্রান্তে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী ও সকল শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান।

উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পরই সাধারণত উচ্ছ্বাসের জোয়ার দেখা যায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। করোনার কারণে এবার প্রতিষ্ঠানে জমায়েত বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণ ছিল এক প্রকার ফাঁকা। করোনার কারণে ঘরের মধ্যে বন্দী সময় কেটেছে শিক্ষার্থীদের। তবে প্রযুক্তির সকল পথ খোলা থাকায় মোবাইলে এসএমএস ছাড়াও ওয়েবসাইটসহ নানা মাধ্যমে সহজেই শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই পেয়ে যায় ফল। এর আগে করোনার মধ্যে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের সময়েও প্রতিষ্ঠানে জমায়েত বন্ধ করে ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।

আইন সংশোধনের পথ ধরে ফল প্রকাশ ॥ কোন পাবলিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ করতে বৃহৎ আকারে প্রচলিত কোন আইনের সংশোধনের প্রয়োজন পড়েনি কখনও। কিন্তু করোনার ছোবলে পড়ে এবার পরীক্ষা না হওয়ায় আইন সংশোধনের পথ অনুসরণ করতে হয়েছে। ফল প্রকাশে আইন সংশোধনের প্রস্তাব চলতি সপ্তাহেই জাতীয় সংসদে পাস করা হয়। এরপর সোমবার গেজেট জারি করে সরকার। ফলে পরীক্ষা ছাড়াই বিকল্প মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফল প্রকাশে এখন আর কোন আইনী বাধা থাকল না। সংসদে পাস হওয়া তিনটি বিলে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ সই করার পর গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে।

‘ইন্টারমিডিয়েট এ্যান্ড সেকেন্ডারি এডুকেশন (এ্যামেন্ডমেন্ট) এ্যাক্ট-২০২১’ ‘বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) এ্যাক্ট-২০২১’, ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (সংশোধন) এ্যাক্ট-২০২১’ গেজেট আকারে জারি হওয়ার পর পরীক্ষা ছাড়াই বিকল্প মূল্যায়নের ভিত্তিতে ফল প্রকাশ করার পথ তৈরি হয়।

আইনগুলো সংশোধন হওয়ায় বিশেষ পরিস্থিতে অতিমারী, মহামারী, দৈব দুর্বিপাকের কারণে বা অনিবার্য পরিস্থিতিতে কোন পরীক্ষা গ্রহণ, ফল প্রকাশ এবং সনদ করা সম্ভব না হলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপনের আদেশ দিয়ে কোন বিশেষ বছরে শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষা ছাড়াই বা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নিয়ে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা পদ্ধতিতে মূল্যায়ন এবং সনদ দেয়ার নির্দেশ জারি করা সম্ভব হয়।

গত বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১ এপ্রিল থেকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়া হয়। পরিস্থিতি ইতিবাচক না হওয়ায় ৭ অক্টোবর সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, ‘পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মতো এইচএসসি পরীক্ষাও নেয়া যাচ্ছে না। অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলের গড় করে এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। জেএসসি-জেডিসির ফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে’। সেই ঘোষণার বাস্তবায়ন হলো শনিবার ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে।

২০২০ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণকারী ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই পাস করেছে। জিপিএ-৫ পাওয়া একলাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন মোট পরীক্ষার্থীর শতকরা হার ১১ দশমিক ৮৩ শতাংশ। নয় হাজার ৬৩টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেয়ার জন্য ফরম পূরণ করেছিল।

সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ে ফল প্রকাশ যেভাবে ॥ শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি ছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরীক্ষা না হওয়ায় এবার জেএসসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিষয় ‘ম্যাপিং’ করে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের ফল মূল্যায়ন করা হয়েছে। সাধারণভাবে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষার আবশ্যিক বিষয় বাংলা, ইংরেজী এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমানের আবশ্যিক বাংলা, ইংরেজী ও আইসিটি বিষয়ের নম্বরের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে এইচএসসিতে বাংলা, ইংরেজী ও আইসিটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিভাগ (গ্রুপ) পরিবর্তনের ক্ষেত্রে জেএসসি বা সমমান পরীক্ষার গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার বিভাগভিত্তিক তিনটি বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে এইচএসসির মানবিক ও অন্যান্য বিভাগের তিনটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগের ক্ষেত্রে জেএসসি ও সমমান পরীক্ষার গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞান বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও উচ্চতর গণিত বা জীববিজ্ঞান বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়।

ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ক্ষেত্রে জেএসসি বা সমমান পরীক্ষার গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার গ্রুপভিত্তিক তিনটি সমগোত্রীয় বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে এইচএসসির ব্যবসায় শিক্ষায় বিভাগের তিনটি সমগোত্রীয় বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।

মানবিক ও অন্য বিভাগের ক্ষেত্রে জেএসসি বা সমমান পরীক্ষার গণিত এবং বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের প্রাপ্ত গড় নম্বরের ২৫ শতাংশ এবং এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার বিভাগভিত্তিক তিনটি বিষয়ের ৭৫ শতাংশ নম্বর বিবেচনা করে এইচএসসির মানবিক ও অন্য বিভাগের তিনটি বিষয়ের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। ফল উন্নয়নের জন্য এবং আংশিক বিষয়ের (এক বা একাধিক বিষয়) পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অকৃতকার্য বিষয়ের নম্বর দেয়ার একই নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছে।

জিপিএ-৫ হারিয়েছে কম, বেড়েছে বেশি ॥ ‘সাবজেক্ট ম্যাপিং’ করায় ওই দুই পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও এবার ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাননি। জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পেলেও মূল্যায়নের ফলে ১৭ হাজার ৪৩ শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, গত বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল তৈরির জন্য সাবজেক্ট ম্যাপিং করায় জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেলেও এবার ৩৯৬ জন জিপিএ-৫ পায়নি। সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের কারণে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে এমনটি হয়েছে। যখন ম্যাপিং করা হয়েছে, তখন জিপিএ-৫ এর জন্য যে নম্বর দরকার ছিল, তা তারা পাননি। আবার বিষয়ভিত্তিক ম্যাপিং করায় অনেকে আগের দুই পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পেলেও এবার সেটি অর্জন করেছেন।

মন্ত্রী আরও জানান, জিপিএ-৫ না পাওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী বেশি। জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেও ২০১৭ সালে ১৭ হাজার ৩৭১ জন, ২০১৮ সালে ৫২ হাজার ৬৩৪ জন এবং ২০১৯ সালে ৪৫ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাননি। জেএসসি-জেডিসি এবং এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ না পেলেও ২০১৭ সালে ৬ হাজার ৯৭৬ জন, ২০১৮ সালে ৪ হাজার ১৫৭ জন এবং ২০১৯ সালে ৮ হাজার ৫৭০ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছিল।

আন্তঃ শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব কমিটির প্রধান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদ জনকণ্ঠকে বলছিলেন, যে ৩৯৬ জন এখন জিপিএ-৫ হারিয়েছে তাদের অধিকাংশই আসলে এক বা একাধিক বিষয়ে গত এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থী। অর্থাৎ তারা ছিলেন মানোন্নয়ন পরীক্ষার্থী। তারা ওই বিষয়েই পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিল। তাদের ফল মূল্যায়নে কেবল ওই বিষয়টির আগের ফলই মূল্যায়ন করা হয় নিয়ম অনুসারে। ফলে দেখা গেছে, যখন ম্যাপিং করা হয়েছে তখন জিপিএ-৫ এর জন্য যে নম্বর দরকার ছিল, তা তারা পাননি। আমরা বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য জানিয়ে দেব। শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে সকল তথ্য ভালভাবে জানতে পারবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগের দুই পরীক্ষায় যারা চতুর্থ বিষয়ের জিপিএ মিলিয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ এবার পূর্ণাঙ্গ জিপিএ পাননি।

কোন বোর্ডে কত জিপিএ-৫ ॥ নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড থেকে চার হাজার ৫৩৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিল ১১ লাখ ৪৫ হাজার ৩২৯ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৬১৪ জন। জিপিএ-৫ এর শতকরা হার ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ। এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল তিন লাখ ২৬ হাজার ৪১ জন। জিপিএ- ৫ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯২৬ জন শিক্ষার্থী। রাজশাহীতে পরীক্ষার্থী ছিল একলাখ ৪৯ হাজার ৯৭৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৬ হাজার ৫৬৮ জন। কুমিল্লয় পরীক্ষার্থী ছিল একলাখ দুই হাজার ৪৩৪ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে নয় হাজার ৩৬৪ জন। যশোর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল একলাখ ২১ হাজার ৫২৮ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ৮৯২ জন। চট্টগ্রামে পরীক্ষার্থী ছিল ৯৭ হাজার ৯৬৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ১২ হাজার ১৪৩ জন।

বরিশালে পরীক্ষার্থী ছিল ৬৮ হাজার ৯২০ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচ হাজার ৫৬৮ জন। সিলেট বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৭৫ হাজার ৩২৩ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ২৪২ জন। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল একলাখ ১৮ হাজার ৭৩৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১৪ হাজার ৮৭১ জন। ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ৮৪ হাজার ৪০৫ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১০ হাজার ৪০ জন। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল এক লাখ ৩৩ হাজার ৭৪৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে চার হাজার ১৪৫ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে ৮৮ হাজার ৩০২ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। জিপিএ ৫ পেয়েছে চার হাজার ৪৮ জন পরীক্ষার্থী।

জিপিএ-৫ এ এগিয়ে মেয়েরা ॥ সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে রয়েছে। এইচএসসিতে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে একলাখ ৫৩ হাজার ৬১৪ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৭৪ হাজার ৭০৩ জন এবং ছাত্রী ৭৮ হাজার ৯১১ জন। কারিগরিতেও মেয়েরা এগিয়ে।

এ বোর্ডে একহাজার ৪৪৮ জন ছাত্র এবং দুই হাজার ৬৯৭ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তবে মাদ্রাাসা বোর্ডে ছেলেদের চেয়ে কম জিপিএ-৫ পেয়েছে মেয়েরা। মাদ্রাসা বোর্ডে দুই হাজার ৩১৮ জন ছাত্র এবং এক হাজার ৭৩০ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছে।

আপত্তি থাকলে ‘রিভিউ’ আজ থেকেই ॥ ঘোষিত ফলে যারা খুশি হতে পারেনি তারা আজ রবিবার থেকেই ফল রিভিউয়ের আবেদন করতে পারবেন। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রিভিউয়ের আবেদন করা যাবে জানিয়ে শনিবার নোটিস জারি করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটি। কেবল টেলিটকের প্রিপেইড মোবাইল থেকে ফল রিভিউয়ের আবেদন করা যাবে। ম্যানুয়ালি কোন আবেদন গ্রহণ করা হবে না। রিভিউ আবেদন করতে মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে জঊঠ লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে পিন নম্বর দেয়া হবে। এরপর মেসেজ অপশনে গিয়ে জঊঠ লিখে স্পেস দিয়ে ণঊঝ লিখে স্পেস দিয়ে পিন নম্বর লিখে স্পেস দিয়ে যোগাযোগের জন্য যে কোন অপারেটরের মোবাইল নম্বর লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে। প্রতিটি আবেদনের জন্য ১২৫ টাকা করে ফি নেয়া হবে।

উচ্চশিক্ষায় সুযোগ আগের মতোই ॥ শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গত বছর যে সুযোগ ছিল, এবারও স্বাভাবিকভাবে ততটুকুই থাকছে। সবাইকেই এই পর্যায়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে হবে, বিভিন্নভাবে এ পরীক্ষা হবে। কাজেই সেখানে তাদের মেধার পরিচয় দিয়েই ভর্তির সুযোগ পাবে তারা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পাস করা সকল শিক্ষার্থী ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ না পেলেও ভর্তির সুযোগ রয়েছে। আমাদের সরকারী- বেসরকারী ও কলেজে পর্যাপ্ত আসন রয়েছে। সবাই সেখানে ভর্তির সুযোগ পাবে। তবে সবার তো অনার্স-মাস্টার্স করার প্রয়োজন নেই, সবাই সে স্তরে যাবেও না। সব জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী ভাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে, তা নিশ্চিত নয়। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে নিজের স্থান তৈরি করতে হবে। এবার ভর্তি পরীক্ষায় হয়রানি কমাতে গুচ্ছ পদ্ধতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না হওয়ায় ফরম পূরণের সময় দেয়া অর্থের কিছু অংশ ফেরত পাবেন পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ বাবদ আদায় করা অর্থের কিছু অংশ সরকারের ব্যয় হয়েছে। কিন্তু যে অংশ ব্যয় হয়নি, সেই অব্যয়িত অংশ ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ফল প্রকাশের পরপরই এ বিষয়ে বোর্ডগুলো তাদের নিজ নিজ ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580