রবিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২১, ০৬:৪১ অপরাহ্ন

শীতার্তদের পাশে দাঁড়ানো ইমানি দায়িত্ব

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৫ পাঠক পড়েছে

অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইবাদত। নিঃস্ব, নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের সাহায্যে এগিয়ে আসা, তাদের প্রতি সহানুভূতি-সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করা নিঃসন্দেহে বরকতময় ও পুণ্যময় কাজ। মানুষের কষ্ট, দুর্দশা দেখে যার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় না সে প্রকৃত মুমিন নয়। বিশ্বমানবতার মুক্তিদূত হজরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বদা অসহায় নির্যাতিত ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতেন, তাদের দিকে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন।

শুধু তাই নয়, তিনি সমাজের বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে আইয়ামে জাহিলিয়াতের যুগে মাত্র ২৫ বছর বয়সে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামক একটি সেবামূলক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন; যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল দুস্থ-অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। নবুয়তের ২৩টি বছরও তিনি মানুষের মাঝে প্রচার করেন মানবতার মর্মবাণী। যারা নিঃস্ব, অভাবী ও বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ায় তাদের ব্যাপারে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘তারা আল্লাহর প্রেমে অভাবগ্রস্ত এতিম ও বন্দীদের খাবার দান করে। তারা বলে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমরা তোমাদের আহার্য দান করি এবং তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান বা কৃতজ্ঞতা কামনা করি না। ’ সুরা দাহর, আয়াত ৮-৯। হজরত আবু মুসা আশয়ারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা কর এবং বন্দীকে মুক্ত কর; যাকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে। ’ বুখারি।
হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে (মুসলমান) ব্যক্তি কোনো বস্ত্রহীন মুসলমানকে কাপড় পরিধান করায়, আল্লাহ তাকে জান্নাতে সবুজ পোশাক পরিধান করাবেন।

যে ব্যক্তি কোনো ক্ষুধার্ত মুসলমানকে খানা খাওয়ায়, আল্লাহ তাকে জান্নাতের ফলসমূহ খাওয়াবেন। আর যে ব্যক্তি কোনো পিপাসার্ত মুসলমানকে পানি পান করায়, আল্লাহ তাকে এমন শরাব পান করাবেন যার ওপর মোহর লাগানো থাকবে। ’ আবু দাউদ।
হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর শাসনামলে একবার মদিনায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। প্রচ- খাদ্য সংকটে মদিনাবাসীর জীবন চরম দুর্বিষহ হয়ে উঠল।

সে সময় হজরত উসমানের (রা.) একটি ব্যবসায়িক কাফেলা বিশাল খাদ্যসামগ্রী নিয়ে মদিনায় এসে পৌঁছল। এ খবর মদিনাবাসীর মাঝে বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়ল। মদিনার কিছু ব্যবসায়ী তাঁর কাছে হাজির হয়ে খাদ্যসামগ্রী কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করল। হজরত উসমান (রা.) বললেন, যে আমাকে শত শত গুণ লাভ দিতে পারবে আমি তার কাছে এ খাদ্যসামগ্রী বিক্রি করব। কেননা একজন আমাকে ৭০০ গুণ লাভ দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। এ কথা শুনে মদিনার ব্যবসায়ীরা নিরাশ হয়ে চলে গেলেন। এরপর তিনি তাঁর সমুদয় খাদ্যসামগ্রী বিনামূল্যে মদিনাবাসীর মধ্যে বিতরণ করে দিলেন। ব্যবসায়ীরা বললেন, আপনি ৭০০ গুণ লাভ দাবি করেছিলেন অথচ এখন বিনামূল্যে বিতরণ করছেন! জবাবে হজরত উসমান (রা.) বললেন, আমি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশে দান করছি; যিনি কোরআনে ১-এর বিনিময়ে ৭০০ গুণ দেওয়ার ওয়াদা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580