বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:৫১ পূর্বাহ্ন

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা-অভিযুক্ত হারুন পলাতক,আটক ৪ জন

অনলাইন ডেক্স :
  • প্রকাশিত সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ২ পাঠক পড়েছে

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে ঘাইলারা গ্রামের সৈয়দ মণ্ডলের ছেলে গৃহকর্তা হারুন মন্ডল কর্তৃক তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ুয়া শিশু গৃহকর্মী ধর্ষণের ঘটনায় শিশুটিকে উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার থেকে বিভিন্ন যায়গায় অভিযান চালিয়ে আজ ৭ অক্টোবর বুধবার সকাল ৬টায় হালুয়াঘাটের জুগলি ইউনিয়নের রণকুঠুরা গ্রামে তার ফুফাতো ভাই জাহিদুলের বাড়ী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হারুনের বড় ভাই সাবেক মেম্বার তাইজুল ইসলাম এবং মেয়ে শিশুটির ফুফাতো ভাই জাহিদুল এবং হাসমত,সিরাজুলসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার রূপনারায়নকুড়া ইউনিয়নের গাছগড়া গ্রামের দিনমজুর হযরত আলীর সাথে তার স্ত্রী লতিফা বেগমের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় বেশ কয়েক বছর আগে। পরে লতিফা ঝিয়ের কাজ করে এবং হযরত আলী বিভিন্ন ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালায়। তাদের এ মেয়েকে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে উপজেলার ঘাইলারা গ্রামের হারুনের (৩৫) বাড়ীতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে দেয়।
প্রায় তিন মাস পর থেকে রাতের বেলায় হারুন পাশের কক্ষে প্রবেশ করে শিশু গৃহকর্মীকে নানা রকম লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ করে। এ ভাবে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানা যায় । গত শুক্রবার মেয়েটিকে শারীরিকভাবে ধর্ষণ করার পর শিশু মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে নালিতাবাড়ী সদর হাসপাতালে অজ্ঞাত পরিচয়ে ভর্তি করার তৃতীয় দিন অতিবাহিত হয়ে যাবার পর বিষয়টি জানাজানি পর্যায়ে চলে যায়। গত মঙ্গলবার ভিক্টিম মেয়েটির অবস্থান জানতে সাংবাদিক ও পুলিশ হাসপাতালে যায়। এসময় মেয়েটিকে হাসপাতালে পাওয়া যায়নি। সেখান থেকে কে বা কারা তাকে নিয়ে যায়।অভিযোগ উঠলে এরই ধারাবাহিকতায় থানা পুলিশ দিনরাত খোঁজাখুঁজির তৎপরতা বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে একপর্যায়ে বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়লে স্থানীয় দালালদের মধ্যস্থতায় আড়াই লাখ টাকায় আপোষ করে এ শিশু গৃহকর্মীকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
এখানে উল্লেখ্য যে হারুন ঘাইলারা চৌরাস্তা বাজারে একটি ওষুধ ফার্মেসি দোকান চালায়।তার একটি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ু-য়া কন্যা সন্তান রয়েছে। তার মেয়ের সাথেই এই ভিকটিম শিশুটি তৃতীয় শ্রেণীতে শালমারা প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়াশোনা করত। ভিকটিম এ শিশুটির পিতা-মাতা দুজনই মানসিক বিকারগ্রস্ত।

কিন্তু ধামাচাপা দেওয়া এ ঘটনা ধীরে ধীরে প্রচার হয়ে পড়লে মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। এতে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে মঙ্গলবার দুপুর থেকে থানা পুলিশ ভিকটিমকে উদ্ধার ও অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চালায়। আজ বুধবার (৭ অক্টোবর)সকালে ভিকটিম শিশুকে তার ফুফাতো ভাই জাহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে উদ্ধার করে। এবং আশ্রয়দাতা জাহিদুল ও অভিযুক্তের বড় ভাই সাবেক ইউপি সদস্য তাজুল ইসলামকে ঘাইলারা নিজ বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে হাসমত এবং সিরাজুলকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে মামলার আট আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মূল আসামি হারুন পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।
এদিকে শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) বিল্লাল হোসেন আজ মঙ্গলবার নালিতাবাড়ীতে ছুটে আসেন। নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বছির আহমেদ বাদল জানায়, ভিকটিমকে ডাক্তারী পরীক্ষা ও ২২ ধারায় জবানবন্দি প্রদানের জন্য শেরপুর পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত হারুনকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
Design and Developed by DONET IT
SheraWeb.Com_2580